রামনবমীর আবহে ছত্তিশগড়ে ‘ঘর ওয়াপসি’: ৬১০ জনের সনাতন ধর্মে প্রত্যাবর্তন
আর্ন্তজাতিক ডেস্ক,
ছত্তিশগড়: রামনবমী ও চৈত্র নবরাত্রির পবিত্র আবহে এক বড়সড় ধর্মীয় কর্মসূচির সাক্ষী থাকল রাজ্যের সাক্তি জেলা। ‘ঘর ওয়াপসি’ নামে পরিচিত এই উদ্যোগে প্রায় ৬১০ জন মানুষ সনাতন ধর্মে প্রত্যাবর্তন করেছেন বলে আয়োজকদের দাবি। এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন বিজেপি নেতা প্রবল প্রতাপ সিং জুদেভ।
অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় সাক্তি জেলার শ্রী সিদ্ধ হনুমান মন্দির প্রাঙ্গণে। চৈত্র নবরাত্রির প্রতিপদা তিথি, যা হিন্দু নববর্ষের সূচনা হিসেবে বিবেচিত, সেই দিনেই এই বৃহৎ আয়োজন সম্পন্ন হয়। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ফিরে আসা ব্যক্তিদের স্বাগত জানানো হয়।
অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ দিক ছিল অংশগ্রহণকারীদের পা ধুয়ে অভ্যর্থনা জানানোর প্রথা। নেতৃত্বদানকারী জুদেভ নিজেই ভক্তিভরে এই আচার সম্পন্ন করেন। উপস্থিত বহু মানুষের কাছে এই দৃশ্য আবেগঘন হয়ে ওঠে এবং এর ভিডিও ও ছবি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
এই কর্মসূচি আয়োজিত হয় ধর্মীয় সংগঠন ধর্ম জাগরণ সমন্বয়-এর তত্ত্বাবধানে এবং সাধক প্রেমা সাই মহারাজ-এর আশীর্বাদে। আয়োজকদের দাবি, অংশগ্রহণকারীদের একটি বড় অংশ আদিবাসী সম্প্রদায়ের, যাদের মধ্যে অনেকে পূর্বে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তীতে তারা নিজেদের পূর্বপুরুষের ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে পুনরায় সনাতন ধর্মে ফিরে আসেন।
অনুষ্ঠানে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে হোম-যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয় এবং ধর্মীয় আচার পালনের মাধ্যমে প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। অনেক পরিবার একসঙ্গে এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়, যা আয়োজকদের মতে এই উদ্যোগের সামাজিক প্রভাবকে আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরে।
প্রবল প্রতাপ সিং জুদেভ জানান, এই উদ্যোগ তার পিতা কুমার দিলীপ সিং জুদেভ-এর শুরু করা ‘ঘর ওয়াপসি’ অভিযানের ধারাবাহিকতা। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মসূচির মাধ্যমে হাজার হাজার পরিবারকে সনাতন ধর্মে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “এটি কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ ও আত্মপরিচয়ে ফিরে আসার প্রতীক।” পাশাপাশি ধর্মান্তরণ ইস্যুতে কড়া অবস্থান নিয়ে তিনি কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি জানান এবং মিশনারি কার্যকলাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তবে এই ধরনের ‘ঘর ওয়াপসি’ কর্মসূচি নিয়ে বিভিন্ন মহলে ভিন্নমতও রয়েছে। কেউ এটিকে ধর্মীয় স্বাধীনতার অংশ হিসেবে দেখেন, আবার কেউ এটিকে সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
সব মিলিয়ে, রামনবমীর পবিত্র সময়ে অনুষ্ঠিত এই ঘটনাটি একদিকে যেমন ধর্মীয় আবেগ ও পরিচয়ের প্রশ্নকে সামনে এনেছে, অন্যদিকে তেমনি সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনার নতুন মাত্রাও তৈরি করেছে।



.png)

%20.png)

No comments: